পরিসংখ্যানের উৎপত্তি (১.০১)

একাদশ- দ্বাদশ শ্রেণি - পরিসংখ্যান - পরিসংখ্যান ১ম পত্র | NCTB BOOK
1.1k
Summary

পরিসংখ্যানের উৎপত্তি

পরিসংখ্যান (Statistics) একটি প্রাচীন বিজ্ঞান, যা মানব জীবনের কার্যক্রম এবং হিসাব-নিকাশ থেকে উৎপত্তি। ইতিহাসে বিভিন্ন নাম ও রূপে এটি উপস্থিত হয়েছে এবং মানুষের সংখ্যাগত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যার প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত হয়েছে।

প্রাচীন সময়

  • শাসকদের অর্থনীতি, জনসংখ্যা ও সামরিক শক্তির তথ্য সংগ্রহের প্রয়োজন ছিল।
  • মিশরীয় সভ্যতায় কর নির্ধারণে ভূমির হিসাব রাখা হতো।
  • চীনে কৃষিজাত উৎপাদন এবং জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
  • রোমান সাম্রাজ্যে জনগণ, সম্পদ ও সেনাবাহিনীর তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করা হতো।

মধ্যযুগ

এই সময়ে পরিসংখ্যানের ব্যবহার রাজস্ব সংগ্রহ, ভূমি জরিপ এবং শাসনব্যবস্থার তথ্য সংগ্রহে ছিল, তবে তা তখনও একটি স্বতন্ত্র বিদ্যা হিসেবে গড়ে ওঠেনি।

আধুনিক সময়

  • ১৭শ ও ১৮শ শতকে জনসংখ্যার গণনা, জন্ম-মৃত্যুর হার ও আর্থিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পরিসংখ্যানের ব্যবহার শুরু হয়।
  • জোহানেস কেপলার ও জন গ্রাউন্টের মতো বিজ্ঞানীরা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
  • ১৮শ শতকে জার্মানিতে ‘স্টেটিস্টিক্স’ শব্দটি ব্যবহৃত হতে থাকে।

সাম্প্রতিক যুগ

  • ১৯শ এবং ২০শ শতকে নতুন শাখা তৈরি হয়েছে, যেমন: বায়োস্ট্যাটিসটিক্স, ইকোনোমেট্রিক্স ও ডেটা অ্যানালাইসিস।
  • কম্পিউটারের আবিষ্কার ও ডেটা সায়েন্সের উন্নতির মাধ্যমে পরিসংখ্যান বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি ও সামাজিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

সারসংক্ষেপ

পরিসংখ্যান মানব সভ্যতার প্রয়োজন থেকে উৎপন্ন হয়ে ক্রমান্বয়ে উন্নত হয়েছে এবং এখন এটি তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও গবেষণার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

পরিসংখ্যানের উৎপত্তি

পরিসংখ্যান (Statistics) একটি প্রাচীন বিজ্ঞান। এর উৎপত্তি মানবজীবনের কার্যক্রম এবং হিসাব-নিকাশ থেকে। ইতিহাসের বিভিন্ন ধাপে, পরিসংখ্যান বিভিন্ন নাম ও রূপে উপস্থিত ছিল। মূলত, এটি মানুষের সংখ্যাগত তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ এবং ব্যাখ্যার প্রয়োজন থেকে উদ্ভূত হয়েছে।


প্রাচীন সময়

প্রাচীনকালে, শাসকদের অর্থনীতি, জনসংখ্যা এবং সামরিক শক্তি সম্পর্কে ধারণা পেতে তথ্য সংগ্রহ করার প্রয়োজন হতো। মিশরীয়, ব্যাবিলনীয়, রোমান, এবং চীনা সভ্যতায় পরিসংখ্যানের ভিত্তি খুঁজে পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ:

  • মিশরীয় সভ্যতায় কর ব্যবস্থা নির্ধারণের জন্য ভূমির হিসাব রাখা হতো।
  • চীনে রাজ্য পরিচালনার জন্য কৃষিজাত উৎপাদন এবং জনসংখ্যার তথ্য সংগ্রহ করা হতো।
  • রোমান সাম্রাজ্যে জনগণের সংখ্যা, সম্পদ এবং সেনাবাহিনীর শক্তি নির্ধারণের জন্য তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

মধ্যযুগ

মধ্যযুগে পরিসংখ্যানের মূল ব্যবহার ছিল রাজস্ব সংগ্রহ, ভূমি জরিপ এবং শাসনব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহে। তবে এটি তখনও একটি স্বতন্ত্র বিদ্যা হিসেবে গড়ে ওঠেনি।


আধুনিক সময়

আধুনিক পরিসংখ্যানের বিকাশ ঘটে ১৭শ এবং ১৮শ শতকে। এই সময়ে বিভিন্ন দেশে জনসংখ্যার গণনা, জন্ম-মৃত্যুর হার, এবং আর্থিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য পরিসংখ্যানের ব্যবহার শুরু হয়।

  • ১৭শ শতকে, জোহানেস কেপলার এবং জন গ্রাউন্ট এর মতো বিজ্ঞানীরা পরিসংখ্যানের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।
  • ১৮শ শতকে, জার্মানিতে ‘স্টেটিস্টিক্স’ শব্দটি ব্যবহার শুরু হয়, যা রাজ্য পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।

সাম্প্রতিক যুগ

১৯শ এবং ২০শ শতকের দিকে পরিসংখ্যানের নতুন নতুন শাখা সৃষ্টি হয়, যেমন:

  • বায়োস্ট্যাটিসটিক্স (জীববিজ্ঞানের পরিসংখ্যান)
  • ইকোনোমেট্রিক্স (অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান)
  • ডেটা অ্যানালাইসিস

কম্পিউটারের আবিষ্কার এবং ডেটা সায়েন্সের উন্নতির মাধ্যমে পরিসংখ্যান বর্তমানে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, অর্থনীতি, এবং সামাজিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।


সারসংক্ষেপ
পরিসংখ্যানের উৎপত্তি মানব সভ্যতার প্রয়োজন থেকে, যা ক্রমান্বয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ হয়েছে। বর্তমানে এটি শুধু তথ্য সংগ্রহের উপায় নয়, বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং গবেষণার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...